বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

১৩০ দেশ ঘুরে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের আসমা

ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়া। গত মাসেই সেখান থেকে ঘুরে এসেছেন বাংলাদেশের মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। তার ভ্রমণের তালিকায় এটি ছিল ১৩০ তম দেশ। মাত্র ১৩ বছরে ভ্রমণ করেছেন বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। আর তাতেই এই ইতিহাস গড়লেন তিনি।

২০০৯ সালে নেপাল ভ্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু অভিযাত্রা আর সবশেষ ঘুরে এলেন সেন্ট লুসিয়া। নিজের খরচ আর বাংলাদেশি পাসপোর্টে এমন জয় বিরল।

এবিষয়ে আজমেরী জানান, ‘আমার এ জয় শুধু আমার নয়, আমি মনে করি এটা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জয়। আমি পেরেছি বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের ১৩০টি দেশে পৌঁছে দিতে। প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের ছাপ রেখে এসেছে। আমার এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, আমি চাই বিশ্বের প্রতিটি দেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে।’

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে স্বপ্ন দেখেছেন বিশ্ব জয়ের। ঘুরে বেড়িয়েছেন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা আর রেডক্রসের চাকরির টাকায়। পরিবার, চাকরি, টাকার সংকট, নারী ও বাংলাদেশি পাসপোর্ট মোকাবিলা করতে হয়েছে এসব বাধা। ভ্রমণের জন্য নিজের গয়নাও বিক্রি করতে হয়েছে আজমেরীকে।

কাজী আসমা আজমেরী বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কত না ঘটনা কত না স্মৃতি তার ঝুলিতে। কখন আনন্দের কখন বেদনার। কিছু কিছু দেশে গিয়ে তার অনেক ভোগান্তি হয়েছে, বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বকে ঘুরে ঘুরে দেখার ঐকান্তিক সাধনায় তিনি পিছিয়ে পড়েননি। ২০০৯ সালে ভিয়েতনাম ভ্রমণে গিয়ে ফিরতি টিকিট না থাকায় তাকে ২৩ ঘণ্টা জেলে আটকিয়ে রাখা হয়।

এছাড়া সাইপ্রাসে তাকে জেল খাটতেও হয়েছে। তখনই জেদ করেন পুরো বিশ্ব ঘুরে তাক লাগিয়ে দেবেন সবাইকে।

আসমা জন্মগ্রহণ করেন খুলনার বিখ্যাত কাজী পরিবারে। বড় হয়েছেন খুলনা শহরে। তার বাবার নাম কাজী গোলাম কিবরিয়া। মায়ের নাম কাজী সাহিদা আহমেদ। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে কাজী আসমা আজমেরী। আসমা বড় ইকবালনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপর খুলনা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে (বিবিএ) মার্কেটিং-এ স্নাতক করেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয়ে এমবিএ করেন।

আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। দুই বছরের মধ্যে বিশ্ব ভ্রমণ শেষ করার লক্ষ্য।

চিত্রজগত/ভ্রমণ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ