মঙ্গলবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ঈদকে ঘিরে সাজছে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল, মোটল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন রূপে সাজাতে শুরু করেছে। রমজানের পর ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজাতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। হোটেলের ভেতর-বাহিরে রং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সব দিকে খেয়াল রাখছেন কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তা কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ, সড়ক-বীচ পরিষ্কার রাখাসহ সবদিকে খেয়াল রাখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, বিশ্বের বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত যদি সুন্দর না থাকে, তবে আমাদের কোটি টাকা বিনিয়োগ কোন কাজে আসবে না। এখানে যারা আসে তারা সমুদ্র সৈকতের গর্জন ও তার সৌন্দর্য দেখতে আসেন। তাই সকলের উচিত সমুদ্র সৈকতকে সুন্দর রাখা।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমুদ্র সৈকতকে পুঁজি করে পর্যটন এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে আমরা এই সমুদ্র সৈকতকে রক্ষা করতে পারছি না। দিন দিন ছোট করে ফেলা হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত। তাই হোটেল ব্যবসায়ীরা যেমন ব্যবসার জন্য তাদের হোটেলের সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে ঠিক তেমনি সৈকত রক্ষায় তাদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ তাদের রোজগারের একমাত্র মাধ্যম এই সৈকত।

গত দু’বছর করোনায় ঈদ মৌসুমে পর্যটকরা সৈকতে আসতে না পারায়, এবার তারা সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না ব্যবসায়ীরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরে লাখো পর্যটক কক্সবাজার আসবে। এখন থেকে বিভিন্ন হোটেলে বুকিং শুরু হয়ে গেছে। আর এই আনন্দ ভ্রমণকে আরও সুন্দর করতে, হোটেলের রুমগুলো নতুন ভাবে সাজাতে শুরু করেছে।

হোটেল রিগ্যাল প্যালেসের পরিচালক ফোরকান মাহমুদ জানান, রমজান মৌসুমে তেমন পর্যটক থাকে না। তাই আমরা ঈদে যেসব পর্যটক আসবে তাদের সার্বিক সুবিধার কথা চিন্তা করে হোটেলের রুমগুলো সৌদর্য বর্ধনের কাজ করছি। প্রায় সব হোটেল এখন ইন্টোরিয়ন ডেকোরেশন করবে যেন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ে।

হোটেল ডায়মন্ডের মালিক আবুল কাসেম জানান, রমজানের অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটক কম থাকায় প্রায় প্রত্যেক হোটেল মালিকরা তাদের হোটেলকে সুন্দর করার কাজে নেমে পড়ে। তবে এবারের বিষয়টি একটু ভিন্ন। কারণ দেশে করোনায় বিগত দু’বছর পর্যটক ঈদ মৌসুমে সমুদ্র নগরী কক্সবাজার ভ্রমণে আসতে পারেনি। হয়ত এবার তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। আগের তুলনায় একটু বেশি পর্যটক আসতে পারে।

হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, আশা করছি এবার আশানুরূপ পর্যটক কক্সবাজারে আসবে। তাই আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। পর্যটকরা যেন পর্যটক সেবীদের কাছ থেকে ভালো সেবা পায়। তার জন্য আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

পৌর মেয়রকে বলে সড়ক পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে বীচ পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কক্সবাজার পৌরসভা বেড়াতে আসা পর্যটকদের যেন চলাচলের কোন সমস্যা না হয়, সেদিকও খেয়াল রেখে সড়কের কাজের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। কলাতলীর প্রধান সড়কের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তবে শহরের প্রধান সড়কের কাজ শেষ না হওয়াতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ। তারা মনে করছে, পর্যটন এলাকার আরেকটি প্রধান স্থান হলো শহরের বার্মিজ মার্কেট।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, আমরা আমাদের জনবল নিয়ে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। ঈদুল ফিতরে আমরা বাড়তি নিরাপত্তার কথা চিন্তায় রেখে টহল পুলিশ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। টুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করেছি। প্রতিটি টিম পর্যটন এলাকায় টহলরত থাকবে।

হোটেল মোটেল এলকায় থাকবে আরেকটি বিশেষ টিম। সমুদ্র সৈকতে সাদা পোষাকধারী টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা টহলরত থাকবে এবং তারা পর্যবেক্ষনে রাখবে কারা কি করছে। আশা করছি আমার আমাদের টিম নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারবো।

চিত্রজগত/ভ্রমণ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়