রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। একদিন পরেই বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা। ত্রিশতম মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণিল ও জাকজমক করার জন্য নানা শিল্পকর্ম তৈরি করে রাখা হয়েছে চারুকলার আঙিনা জুড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পুরো প্রাঙ্গন জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। মঙ্গলশোভা যাত্রায় যেসব শিল্পকর্ম থাকবে সেগুলো তৈরি করাসহ নানান আয়োজনে ব্যস্ত চারুকলা অনুষদের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

বাঙালির আবহমান লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় মঙ্গলশোভা যাত্রায়। তারই ধারাবাহিকতায় তৈরি করা হয়েছে হাতি, ঘোড়া, বক, বাঘ, টেপা পুতুল, ডানামেলা পাখির প্রতিকৃতি। মাটির সরাইয়ে আকা হচ্ছে পাতা, ফুলসহ নানান কিছু।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে এসেছেন মঙ্গলশোভা যাত্রার প্রস্তুতি উপভোগ করতে। ময়নুল আবেদিন জানান, ‘এটা আমার বাবার একটা প্রতিষ্ঠান, এটাতে একটা দুর্ভিক্ষ আছে, সেটা হচ্ছে রুচির দুর্ভিক্ষ। পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুষ্ঠান; সে রুচির দুর্ভক্ষকে কিছুটা হলেও উদ্বুদ্ধ করবে।’

‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’ এবারের মঙ্গলশোভা যাত্রার প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থ থেকে এই চরণটি নেয়া হয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি নিয়ে অপপ্রচার রোধে এবারের প্রতিপাদ্য নেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবারের মঙ্গলশোভা যাত্রার প্রতিপাদ্য নিয়ে বলেন, ‘দেশের শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলে হবে না। আমাদের মেধার অগ্রগতি হতে হবে। আগে আমরা উপমা দিতাম আমরা অমুক দেশের মত হতে চাই; এখন কিন্তু আমরা নিজেরা নজির স্থাপন করছি। সে জন্য অনন্ত আকাশ আমাদের লক্ষ্য।’

মঙ্গলশোভা যাত্রার প্রস্তুতি দেখতে এসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় প্রগতিশীল বাংলাদেম এটির চিত্রই আমরা এখানে দেখতে পাই।’

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় প্রথম পহেলা বৈশাখে মঙ্গলশোভা যাত্রার আয়োজন শুরু হয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো মঙ্গলশোভা যাত্রাকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত দেয়।

চিত্রজগত/শিল্প ও সাহিত্য

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়