রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘মন্দের ভালো’ ‘অ্যানিমেল’!

সংগৃহীত ছবি -- চিত্রজগত.কম

বলিউডের ছবি ‘অ্যানিমেল’ মুক্তি নিয়ে বেশ শোরগোল ছিল বাংলাদেশের সিনেপ্রেমীদের মধ্যে। ভারতে ১ ডিসেম্বর মুক্তির ছয় দিন পর বাংলাদেশের মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে প্রায় ৪৮টি সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পায়। তবে মুক্তির আগে দর্শকদের উন্মাদনায় হল মালিকরা মনে করেছিলেন, হয়তো চুটিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ প্রবাদটির মতো!

দেশের বেশ কয়টি বড় সিনেমা হলের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করলে বুধবার বিকেলে তারা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, আহামরি নয়, এভারেজ চলছে ‘অ্যানিমেল’।

তারা বলছেন, নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না। সিনেমা হল সচল রাখতে ‘অ্যানিমেল’ চালানো ছাড়া উপায় নেই। তবে একেবারে খারাপ যাচ্ছে তাও না।

বলিউডের ছবির মধ্যে ‘জওয়ান’ সিনেপ্লেক্সে মারমার কাটকাট ব্যবসা করেছিল। ‘অ্যানিমেল’ তেমনটা মোটেও ‘চলছে না’ জানিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের জৈষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ বলেন, ”বলিউডের সঙ্গে ‘জওয়ান’ একইদিনে মুক্তি পেয়েছিল। এখানে শাহরুখের দর্শক তো অগণিত। সেই তুলনায় রণবীরের দর্শক নেই। তাই ‘জওয়ান’র মতো চলছে না। মোটামুটি দর্শক দেখছে। এটাকে এভারেজ বলা যায়। যে হাইপ ছিল সেটা হলে অনুপস্থিত।”

“সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় ‘অ্যানিমেল’ চলছে, তবে উপচে পড়া ভিড় নেই। সিনেমা হলের মধ্যে চিৎকার-হইহুল্লোড় ব্যাপারটা নেই। যে পরিমাণে দর্শক আসছে এতে আমরা মোটামুটি হ্যাপি। থিয়েটার রানিং আছে, কিছু মানুষ এসে মুভি উপভোগ করছে এটাকে আমরা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।”

একই অবস্থা যমুনা ব্লকবাস্টারেও। সেখানে দৈনিক নয়টি শো চলছে ‘অ্যানিমেল’ এর। এমনটা জানিয়ে সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান বলেন, মোটামুটি এভারেজ যাচ্ছে। মুক্তির আগে যে হাইপ ছিল সেই তুলনায় রেসপন্স পায়নি। এর আগে ‘জওয়ান’ দেড়মাস ধরে প্রায় হাউজফুল পেয়েছিলাম। কিন্তু এই ছবির ক্ষেত্রে হয়নি। আসলে নতুন বাংলা ছবি সেভাবে আসছে না। তারপরেও ‘অ্যানিমেল’ দেখতে ইয়ুথ বেইজ অডিয়ান্স দেখতে আসছেন।”

মুক্তির আগে আশা জাগালেও ‘অ্যানিমেল’ পুরোপুরি হতাশ করেছে দেশের ঐহিত্যবাহী সিনেমা হল মধুমিতাতে। এর কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ বলেন, প্রথমদিন থেকে একটি শো-ও হাউজফুল হয়নি। হাতেগোনা কিছু দর্শক নিয়ে আজও শো চলছে। এখানে পুরোপুরি ‘অ্যানিমেল’ ব্যর্থ। জেনেছি আকর্ষণীয় কিছু দৃশ্য কেটে ফেলা হয়েছে। দর্শক এটা আগেই জেনেছে। এসব কারণে ছবিটি ভালো যাচ্ছে না। শুক্রবার থেকে ‘মানুষ’ চলবে, দেখি কেমন যায়।

শুক্রবার এবং শনিবার চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেমা হলে হাউজফুল গেছে অ্যানিমেলের। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাদত হোসেন বলেন, দেশের নতুন ছবি নেই। ‘অ্যানিমেল’ আসছে বলে এখনও সিনেমা হলে মানুষ আসছে। প্রথমদিন থেকে আজ পর্যন্ত গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ দর্শক পেয়েছি। যে দৃশ্যগুলো কাটা হয়েছে সেগুলোর তুলনায় বেশি রিউমার প্রভাব ফেলেছে। তবে দৃশ্যগুলো কাটা হয়েছে সেগুলো তো আমাদের দেশের সঙ্গে যায় না। তবে হ্যাঁ, দর্শক রিউমারকে মনে করেছে আসল জিনিসগুলো কেটে ফেলেছে। আসলে তা না। আমাদের দেশে যতটুকু চলার মতো ততোটাই আছে।

সিরাজগঞ্জের রুটস সিনেক্লাবের চেয়ারম্যান সামিয়া ইসলাম ‘এভারেজ’ চলছে জানিয়ে বলেন, অ্যানিমেল খুব ভালো চলেনি আবার হতাশাজনক অবস্থাও না। ছবি পাইরেসি বের হয়েছে, ভারতে রিলিজের ৬ দিন পর বাংলাদেশে এসেছে এবং ২৬ মিনিট কর্তন হয়েছে; এই পরিস্থিতে যেমন চলার কথা তেমনই চলছে। মুক্তির আগে যে পরিমাণ হাইপ ছিল সেই তুলনায় অ্যানিম্যাল প্রত্যাশা পূরণ করেনি।

বগুড়ার সর্বাধুনিক ৩৫০ আসনের মধুবন সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত বেশ ভাল চলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাউজফুল ছিল। গত সাতদিনে সবমিলিয়ে ৫০ শতাংশ দর্শক পেয়েছি। এর আগে দুই সপ্তাহ সিনেমার অভাবে হল বন্ধ ছিল। আমরা চেয়েছিলাম, ‘টাইগার থ্রি’ আসুক। কিন্তু আসেনি। আসলে নব্বই দশক পরবর্তী আমরা লোকসানে ডুবে ছিলাম। অশ্লীল ছবি নির্মাণের ফলে দর্শক হল বিমুখ হয়ে যায়। পরে শাকিব খান আসায় ভালো ভালো সিনেমা আসতে থাকে। তার কারণে দর্শক আবার হলমুখী হয়। এখন কমবেশি ভালো সিনেমা হচ্ছে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে আমাদের সিনেমা হল ব্যবসা আবার প্রফিটেবল অবস্থায় পৌঁছাবে। এখন যে অবস্থায় আছে সেটা ‘গুড গোয়িং’।

মুক্তির আগে ‘অ্যানিমেল’ নিয়ে বাংলাদেশেও সমান হাইপ উঠে, কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির পর তার প্রতিফলন কেন প্রেক্ষাগৃহে নেই? এ প্রসঙ্গে সিনেবিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে ‘অ্যানিমেল’ এর যে ভার্সনটি মুক্তি পেয়েছে, সেটি মধ্যপ্রাচ্য ভার্সন! যেখানে ২৬ মিনিটের মতো সিনেমা বাদ দেয়া হয়েছে! আবার এরমধ্যেই নেটফ্লিক্সের সাথে ‘অ্যানিমেল’ স্ট্রিমিংয়ের চুক্তি হওয়ার খবরটিও প্রকাশ্যে আসে। এসব কারণে দেশের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ২৬ মিনিট কম অ্যানিমেলের ‘আরব ভার্সন’ দেখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বেশীরভাগ তরুণ দর্শক! তারা অপেক্ষায় আছেন কবে নেটফ্লিক্সে ছবিটি আসবে! আর এসবের প্রভাব পড়েছে দেশের সিনেপ্লেক্স থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতেও!

চিত্রজগত ডটকম/সিনেমা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ