সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অভিনেত্রী কস্তুরী চৌধুরী আর নেই

অভিনেত্রী কস্তুরী চৌধুরী মারা গেছেন। তার মেয়ে সংগীতা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি সর্বশেষ রাশিদ পলাশের ‘ময়ূরাক্ষী’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়িকা ববির মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী স্কুলের সাবেক এই শিক্ষিকা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মীয়।

এর আগে গত ২১ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মগবাজার এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শ্যামলীর আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিচালক রাশীদ পলাশের ‘ময়ূরাক্ষী’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়িকা ববির মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কস্তুরী চৌধুরী। হাটহাজারী স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা কস্তুরী চৌধুরী ৭৬ বছর বয়সে এসে প্রথমবারের মতো কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ উচ্ছ্বসিতও ছিলেন। পরিবারের সবার কাছে সেই উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছিলেনও। তিনি বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মীয়। ‘সুতরাং’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সুভাষ দত্ত তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কস্তুরী চৌধুরীর মেয়ে অভিনয়শিল্পী সংগীতা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর মা অনেক দিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। ২১ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে মগবাজার এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শ্যামলীর আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর থেকে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

কস্তুরী চৌধুরীর মেয়ে সংগীতা চৌধুরীও অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র ‘মুজিব: দ্য মেকিং অব নেশন’ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন বঙ্গবন্ধুর মা শেখ সায়েরা খাতুনের চরিত্রে। এই চলচ্চিত্রে তাঁর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।

সংগীতা চৌধুরী বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আম্মা অভিনয় করতেন। তবে সেটা ছিল স্কুল–কলেজে। শিক্ষিকা মা আমাদের চার ভাইবোনকে মানুষ করতেই পেশাদার অভিনয়ে নামই লেখাতে পারেননি। প্রথমবার কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পেরে মায়ের সে কী উচ্ছ্বাস। শিক্ষকতা থেকে মা রিটায়ার্ড করার পর অনেকে তাঁকে নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্রও বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে এসবও করতে পারেননি। অসুস্থ হওয়ার এক দিন আগেও বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা ছিল। সবার কাছে তিনি মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

চিত্রজগত/চলচ্চিত্র

সংশ্লিষ্ট সংবাদ