রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও মেয়র আনিসুল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের অসম্ভব জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৩০ নভেম্বর)। ২০১৭ সালের এই দিনে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মেয়র আনিসুল হক ১৯৫২ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮০ দশকে টেলিভিশনের উপস্থাপক হিসেবেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

আশির দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আনিসুল হক। ১৯৮৬ সালে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “মোহাম্মদী গ্রুপ” প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিজিএমই এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি নির্বাচিত হন আনিসুল হক। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক এর প্রতিষ্ঠাতা।

মরহুম আনিসুল হক ছিলেন একাধারে ব্যবসায়ী, সংগঠক ও তারকা। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর রাজধানীকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই বছর পরেই মারা যান এই স্বপ্নবাজ।

আনিসুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে বিশেষ দোয়া।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডন যান মেয়র আনিসুল হক। সেখানে তিনি সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ) আক্রান্ত হলে ১৩ আগস্ট স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ৩০ নভেম্বর লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুর আগে ডিএনসিসি মেয়র পদে দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি যেটুকু সময় হাতে পেয়েছিলেন তারই মধ্যে বহু উন্নয়ন কাজ শুরু করেছিলেন, উচ্ছেদ করেছিলেন রাস্তা, ফুটপাথ, পার্কসহ বিভিন্ন অবৈধ দখল। তার দৃঢ় পদক্ষেপেই রাজধানী থেকে অপসারিত হয়েছিল অবৈধ বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন।

রাজধানীকে ঘিরে ছিল তার নানা স্বপ্ন। শুরুও করেছিলেন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন, তবে অকাল মৃত্যুর কারণে শেষ করে যেতে পারেননি।

চিত্রজগত/টেলিভিশন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ