মঙ্গলবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

স্মরণ: শাম্মী আক্তারের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাম্মী আক্তারের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর চামেলীবাগে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। ঢাকার শাহজাহানপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। প্রয়াত গুণি কন্ঠশিল্পী শাম্মী আখতারের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

কন্ঠশিল্পী শাম্মী আখতার (শামীমা আখতার) ১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, যশোর জেলার তালতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেড়ে উঠেছেন খুলনায়। মাত্র ছয় বছর বয়সে তাঁর সংগীতজীবনের শুরু হয়। গানের জগতে হাতেখড়ি হয় বরিশালের ওস্তাদ গৌরবাবুর কাছে। তাঁর বাবা শামসুল করিম সরকারি চাকরি করতেন। বাবার বদলির সুবাদে দেশের কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে সংগীতের তালিম নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। যার মধ্যে রাজবাড়ী ও খুলনায় সংগীত শিক্ষা নেন বাবু বামনদাস গুহ রায়, রণজিৎ দেবনাথ, সাধন সরকার, নাসির হায়দার ও প্রাণবন্ধু সাহার কাছে।

১৯৭০ সালে, তিনি খুলনা বেতারে তালিকাভুক্ত হন কন্ঠশিল্পী হিসেবে। সেখানে আধুনিক গানের পাশাপাশি নজরুল সংগীতও পরিবেশন করতেন। ১৯৭৫ সালে ঢাকায় গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পান এবং খুলনা থেকে ঢাকায় চলে আসেন শাম্মী আখতার। ঢাকায় এসে নিয়মিত গাইতে শুরু করেন বেতার ও টেলিভিশনে।

প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সত্য সাহা তাঁকে ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন। ‘অশিক্ষিত’ ছবিতে গান গাওয়ার মধ্যদিয়ে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। প্রথম গানেই তিনি বাজিমাত করেন। তুমূল জনপ্রিয় হয় তাঁর গাওয়া ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে’ এই গানটি।

শাম্মী আখতার যেসব চলচ্চিত্রে নেপথ্য কন্ঠদিয়েছেন তারমধ্যে- অশিক্ষিত, শাহজাদা, লাল সবুজের পালা, কলমিলতা, ছুটির ঘন্টা, জঙ্গলী রাণী, আরাধনা, বন্ধু, জিঞ্জির, ঊজানভাটি, জবাব, কাজল লতা, দি ফাদার, নাগনাগিনী, আলিফ লায়লা, মাটির ঘর, নান্টু ঘটক, ছোট মা, আশির্বাদ, প্রতিহিংসা, বড় ভালো লোক ছিল, বিরহব্যথা, মাটির কোলে, মীমাংসা, সন্ধি, শত্রু, রাম রহিম জন, অপেক্ষা, শিকার, ধনরত্ন, চরমপত্র, বিধান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, আদরের বোন, সোনাই বন্ধু, মায়ের হাতের বালা, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।
তিনি বেতার এবং টেলিভিশনেও নিয়মিত গান করেছেন।
‘‘
অনেক কালজয়ী গানের বরেণ্য কন্ঠশিল্পী শাম্মী আখতারের গাওয়া উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় গানসমূহের মধ্যে- ‘আমি তোমার বধু, তুমি আমার স্বামী’, ‘নেও গো আমারে কাছে ডেকে নেও’, ‘তুমি আমার বন্ধু আমি তোমার বন্ধু’, ‘বিদেশ গিয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না’, ‘মনে বড় আশা ছিল তোমাকে শুনাবো গান’, ‘এই রাত ডাকে ঐ চাঁদ ডাকে হায় তুমি কোথায়’, ‘আমার মনের বেদনা বন্ধু ছাড়া বুঝে না’, ‘আমি যেমন আছি তেমন রবো বউ হবো না রে’, ‘আমার নায়ে পার হইতে লাগে ষোল আনা’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করছে রাত মেহেদী রাঙা হবে হাত’, ‘ভালোবাসলেই সবার সাথে ঘর বাঁধা যায় না’, ‘মনে হয় হাজার বছর ধরে দেখিনা তোমায়’, ‘উড়ছে যেনো স্মৃতির ধুলো পথের হাওয়ায় হাওয়ায়’, ‘নিশা লাগিলরে’, অন্যতম।

২০১০ সালে ‘ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, চলচ্চিত্রের গানের জন্য, শ্রেষ্ঠ নারী কন্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন শাম্মী আখতার। এছাড়াও পেয়েছেন বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক নানা পুরস্কার ও সম্মাননা।

ব্যক্তিজীবনে শাম্মী আখতার ১৯৭৭ সালে, সঙ্গীতশিল্পী আকরামুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান কমল ও সাজিয়া।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই কন্ঠশিল্পী কয়েকশো চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। তাঁর গাওয়া বহুগান জনপ্রিয় হয়েছে। অনেক গান হয়ে আছে কালজয়ী। সুমধুর কন্ঠের অধিকারী শাম্মী আখতার চলচ্চিত্রের গানে সাফল্য তাকে শ্রোতাদের খুব কাছে নিয়ে যায়। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন শাম্মী আক্তার, চলচ্চিত্র ও আধুনিক বাংলা গানের জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

চিত্রজগত/সঙ্গীত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়