শুক্রবার, ৩১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে যেসব সিনেমা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা। তার উত্থাপিত বিলের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, যা বর্তমানে এফডিসি নামে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে একের পর এক সিনেমা নির্মিত হলেও, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও জাতির পিতাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহ দেখা যায়নি নির্মাতাদের। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত বছর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে বেশকিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়, যার বেশ কয়েকটি এরইমধ্যে মুক্তিও পেয়েছে, বাকিগুলো মুক্তির পথে।

ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে জাতির পিতার বায়োপিক। নাম ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। পরিচালনা করছেন বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। চলতি বছরই সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে। এ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ।

অন্যদিকে, শাপলা মিডিয়ার প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত আরেক সিনেমা ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে। পেয়েছে চলতি বছরের জাতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ পুরস্কার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে খুন হন বঙ্গবন্ধু। পর্দায় সে দিনের ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছে ‘৫৭০’ নামের একটি সিনেমায়। আশরাফ শিশিরের পরিচালনায় সিনেমাটিতে বাপ্পী চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়া এক সৈনিক চরিত্রে দেখা যাবে।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা’। সরকারী অনুদানে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন মুশফিকুর রহমান গুলজার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য টু-ডি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘মুজিব আমার পিতা’। এটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা। ২০২১ সালে সিনেমাটি মুক্তি পায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘তর্জনী’। ঐতিহাসিক এ ভাষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে, তা পর্দায় তুলে ধরবেন পরিচালক সোহেল রানা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের পরের দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে নির্মাণ হয়েছে ‘আগস্ট ১৯৭৫’। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন সেলিম খান।

৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসক ভাষণ বাঙালি জাতি শুনতে পেয়েছিল রেডিওর মাধ্যমে। সেই ভাষণকে কেন্দ্র করে প্রত্যন্ত এক গ্রামে জেগে উঠেছিল একদল মুক্তিপাগল জনতা, যা পরবর্তী সময় সূচিত করে স্বাধীনতার ভিত্তি। ১৭ মার্চ দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছে ‘রেডিও’ নামের এ সিনেমা। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক সে ভাষণ নিয়ে সরকারী অনুদানে নির্মিত হচ্ছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’। এটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ফেরদৌস আহমেদ ও তানভীন সুইটি।

শুধু দেশেই নয়, বলিউডেও বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। নাম রাখা হয়েছে ‘ব্যাটল ফর বেঙ্গল’। পরিচালনায় রিচি মেহতা।

প্রসঙ্গত, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্রও তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে। যেগুলো চলতি বছর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু নিয়ে এ সিনেমাগুলো কেবল সিনেমাই নয়। এসব সিনেমা এক বোধের নাম। যার মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙালির অন্তরে, অস্তিত্বে, সবসময়।

চিত্রজগত ডটকম/ঢালিউড

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়