বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দ্রুত গতির ইন্টারনেট প্রযুক্তি ৫ জি’র জগতে বাংলাদেশ

দ্রুত গতির ইন্টারনেট প্রযুক্তি ৫ জি’র জগতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রবেশের কথা জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। রোববার (১২ ডিসেম্বর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর, সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ- এই ৬টি এলাকায় আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে গ্রাহকদের জন্য আগামী বছরের মধ্যে ২০০টি স্থানে এই সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটক।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নিঃসন্দেহে এটা বিশাল এক উদ্যোগ। নতুন এই প্রযুক্তি স্থাপনের দায়িত্বে থাকা টেলিটক কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫জি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল গ্রাহকরা কল ড্রপের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আরও উন্নত মানের ভয়েস কল সেবা এবং ৪জি প্রযুক্তির চেয়ে অন্তত ২০ গুণ দ্রুত গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

এই প্রযুক্তির সুবিধা কেবল মোবাইল গ্রাহকদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং ভয়েস কলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সাহায্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন, সরকারের বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প খাতসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। টেলিটকের পাশাপাশি অল্প কিছুদিনের মধ্যে বেসরকারি তিনটি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিঙ্ক ফাইভ জি প্রযুক্তিতে যেতে বেতার তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামে অংশ নেবে।

আমরা জানি, আজকের এই ঐতিহাসিক যাত্রার আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা শুরু হয়েছিল থ্রি-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে। তার পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালে চালু হয় ফোর-জি সেবা। কিন্তু এসব সেবার কোনোটা নিয়েই কখনো গ্রাহকদের সন্তুষ্ট হতে দেখা যায়নি। থ্রি-জির ক্ষেত্রে যেমন অসংখ্য অভিযোগের কথা শোনা গেছে, তেমনি অভিযোগ আছে ফোর-জি সেবা নিয়েও। এখনো এলাকাভেদে একেক রকম নেটওয়ার্ক পাওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। আর এসব কারণে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গতিতে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এই চিত্র করোনাকালে আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়, যখন বাসা বা বাড়িতে থেকে অফিস, ভার্চুয়াল ক্লাস, ভার্চুয়াল বিচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক নতুন যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। সেই সময় আমরা দেখেছি দেশের বহু এলাকায় ইন্টারনেটের সীমিত গতির কারণে কোটি শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। বহু মানুষ বাসা বা বাড়ি বসে থেকে অফিসের কাজও করতে পারেনি।

আমরা মনে করি, এই ৫ জি প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো দেশকে এই প্রযুক্তির আওতায় এনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে নতুন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বার্তা। তৈরি করতে হবে সেই বিপ্লবের অগ্রসেনাদের।

চিত্রজগত/সম্পাদকীয়

সংশ্লিষ্ট সংবাদ