শুক্রবার, ৩১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ফ্যাশন ডিজাইনার আনিসুজ্জামান-এর স্মৃতিতে বাপ্পি লাহিড়ি

‘দাদার মতো আমিও কালো গ্লাস ও অর্নামেন্ট পরি’

কথায় বলে ওল্ড ইস গোল্ড, আর প্রসঙ্গ যখন বাপ্পি লাহিড়ি, তখন স্বর্ণযুগই বটে। ক্রমেই সময়ের হাত ধরে বদলেছে সমাজ, বদলেছে মানুষের চিরাচরিত চিন্তা-ভাবনা ও বিশ্বাস, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্টেছে শিল্প, জোয়ার এসেছে প্রতিটা ক্ষেত্রে, ঠিক তেমনই এক নতুন যুগ সুচনার নাম হল বাপ্পি লাহিড়ি।

গানের দুনিয়ায় যখন একের পর এক কিংবদন্তি তারকারা জাঁকিয়ে বসছে সিনে দুনিয়ায়, ঠিক তখনই ডিস্কো উপহার নিয়ে ভারতীয় হিন্দি ছবির সঙ্গীতে ঝড় তোলেন বাপ্পি লাহিড়ি। দীর্ঘ এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালের পক্ষ থেকে ছুটি। তবে মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শারীরিক অবস্থার অবনতী ঘটে, পরিবারের তরফ থেকে ডাক্তারকে বাড়িতেই ডেকে পাঠানো হয়। ডাক্তারের পরামর্শ তৎক্ষণাত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমস্যা থাকায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়। অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াতে মৃত্যু ঘটে বাপ্পি লাহিড়ীর। মধ্যরাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সঙ্গীত দুনিয়ার কিংবদন্তি এ শিল্পীর মৃত্যুতে ব্যথিত গোটা বিনোদনের মানুষেরা। তেমনি আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইনার আনিসুজ্জামান আনিস তার ফেসবুক আইডিতে প্রিয় শিল্পীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। আনিস লিখেছেন, ‘আমার গুরুজী (আমার বাপ্পি দাদা) আর নেই! তিনি সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি। আমি তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

আসের ভাষায়, ‘বাপ্পি দাদা ছিলেন আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ। আমার গুরুজী বাপ্পি দাদার সান্যিধ্যে আমার যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল অনের বার। আমি বাপ্পি দাদার এতো ভক্ত ছিলাম সবসময় আমি দাদাকে অনুকরণ করতাম। দাদার স্টাইল ছিলো আমার সবচেয়ে প্রিয়। দাদার মতো সানগ্লাস এবং গলায় আমি প্রচুর অর্নামেন্টস্ পরি। আমাকে বাংলাদেশে ও আমেরিকাতে সবাই জুনিয়র বাপ্পি লাহিড়ি বলে ডাকে। সত্যি আমি খুব ইনজয় করি। আমার কাছে অনেক ভালো লাগে যে সবাই আমাকে আমার গুরুজী বাপ্পি লাহেরীর শিষ্য বলে জানে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বাপ্পি দাদা ছিলেন বাংলাদেশের বরিশালের সন্তান ও তার শ্বশুর বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। মুম্বাই চলচ্চিত্রের সুপার স্টার মিঠুন চক্রবর্তীর হিরো হবার পিছনে সমস্ত অবদান ছিলো এই বাঙ্গালী সুরকার বাপ্পি লাহিড়ির। বাঙ্গালী অনেক শিল্পী অনেক হিরো হিরোইন সুপার স্টার হবার পিছনে বাপ্পি দাদার অবদান ছিলো অনেক বেশী। বাংলাদেশে, ইন্ডিয়াতে ও আমেরিকার নিউইয়র্কে বাপ্পি দাদার সাথে আমার দেখা ও কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিলো। দাদার পরিবারের সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক ছিলো। দাদার এই অকাল মৃত্যুতে আমি শোকাহত। আমি দোয়া করি ঈশ্বর যেন দাদাকে স্বর্গবাসী করেন। বাপ্পি দাদা তুমি যেখানে থাকো অনেক ভালো থেকো। তোমার জন্য অনেক অনেক দোয়া, ভালোবাসা ও বিনম্র শ্রদ্ধা।’

চিত্রজগত/ফ্যাশন/বিনোদন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়