রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুন্নবীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চিত্রজগত ফটো -- চিত্রজগত.কম

আয়নাতে মুখ দেখতে নিলে আপনার কোন গানটি মনে পড়ে? বাঙালি রমণী আয়নাতে যখনই মুখ দেখে একটি গান আর একজন শিল্পীর কথাই মনে করে। তিনি শিল্পী মাহমুদুন্নবী। গানে গানে এমন আবেগী কণ্ঠে প্রেমিকাকে প্রেম নিবেদনের তুলনা আর কারো সাথেই চলে না। তার সুর আর কণ্ঠের মাধুর্যতাই গানগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলেছে শ্রোতাদের কাছে। বাংলা গানের সুরের আকাশে আলোকিত এক তারকার নাম মাহমুদুন্নবী।

৬০ থেকে ৮০ দশককে বলা হয় বাংলা আধুনিক গানের স্বর্ণালী যুগ। কথা, সুর আর গায়কীর এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটেছিল সেসময়। সেই স্বর্ণালী সময়ের এক উজ্জল তারকা শিল্পী মাহমুদুন্নবী। ১৯৩৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় মাহমুদুন্নবী’র জন্ম। অসম্ভব সংগীতানুরাগী এই মানুষটি গানকে ভালোবেসে হয়েছিলেন গৃহত্যাগী। গানের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন করাচিতে। সান্নিধ্য পেয়েছেন বিখ্যাত গজলসম্রাট মেহেদী হাসানের।

‘সুরের ভুবনে আমি আজও পথচারী, ক্ষমা করে দিও যদি না তোমায় মনের মত গান শুনাতে পারি’ – ৭০’র দশকে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা আর সত্য সাহার সুরে কালজয়ী এ গানের শিল্পী মাহমুদুন্নবী। শুদ্ধ উচ্চারণ, সুর আর আবেগ এই তিনের মিশেলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমাদৃত এই গান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চলচ্চিত্রে নতুন জোয়ার আসে। তারই ধারাবাহিকতায় মাহমুদুন্নবী ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আধুনিক গানের পাশাপাশি একের পর এক চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিতে শুরু করেন।

মাহমুদুন্নবীকে বলা হতো বিরহ সম্রাট। তার কণ্ঠে নাকি বিরহের গান দারুণ মানাতো। সেসময় চলচ্চিত্রে বা আধুনিক গানে বিরহের গান হলে সবার একমাত্র পছন্দের নাম ছিল মাহমুদুন্নবী।

শিল্পী জীবনে জনপ্রিয়তা আর মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। মাহমুদুন্নবীর পুরস্কারের ঝুলি পূর্ণতা পায় ১৯৭৬ সালে। সে বছর ‘দ্য রেইন’ চলচ্চিত্রের ‘আমিতো আজ ভুলে গেছি সবই’ গানটির জন্য তার হাতে ওঠে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে ‘তুমি যে আমার কবিতা’, ‘তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো’, ‘ও গো মোর মধুমিতা’, ‘গীতিময় সেই দিন চিরদিন’, ‘সালাম পৃথিবী তোমাকে সালাম দুনিয়া কে করেছো টাকার গোলাম’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে কেন সৈকতে পড়ে আছি’, ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে বল কী হবে’, ‘প্রেমের নাম বেদনা’সহ রয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

সদা মিষ্টভাষী কিংবদন্তি এই শিল্পীকে এক সময় গানের জগত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সত্য সাহার সুরে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখায় তার গাওয়া ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে কেন সৈকতে পড়ে আছি’ গানটির জন্য একুশে পদক ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সেই পুরস্কার দেওয়া হয়নি। যা আজও রহস্যজনক।

১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর এই কিংবদন্তীর অকাল প্রয়াণ ঘটে। মাহমুদুন্নবীর দুই কন্যা ফাহমিদা নবী ও তার ছোট বোন সামিনা চৌধুরী খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী। গুণী এই শিল্পী সুরের যে সাগরে বিচরণ করেছেন তাতে আজো হাবুডুবু খাচ্ছেন সংগীতপ্রেমীরা। তার গাওয়া আধুনিক আর চলচ্চিত্রের সেই কালজয়ী সব গানগুলো আজও সোনালি অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয় আমাদের।

চিত্রজগত ডটকম/স্মরণী বরণীয়

সংশ্লিষ্ট সংবাদ