সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সরকারিভাবে ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের উদ্যোগ বাংলাদেশে

এক বছরের আয় ৯ লাখ টাকা প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর

দেশের ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি তারকা আইয়ুব বাচ্চুর ২৭২টি গানের রয়্যালিটি হিসেবে ৯ লাখ টাকা পেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। কপিরাইট অফিসের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অর্জিত ৫ হাজার ডলার এবং চুক্তি অনুসারে গ্যাক মিডিয়া থেকে এককালীন ৫ লাখ টাকার অগ্রিম চেক পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য এটি ভীষণ ইতিবাচক ঘটনা বলে মনে করছেন সংগীত সংশ্লিষ্টরা।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর প্রয়াত হন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে জন্মেছিলেন এই সংগীত তারকা। কিশোর বয়সে গিটার বাজিয়ে প্রথম উপার্জন করেছিলেন ৩০ টাকা। আর সেই আইয়ুব বাচ্চু পরবর্তীতে সংগীতকেই বেছে নেন ক্যারিয়ার হিসেবে। তিনি মারা গেছেন ৩ বছর আগে। কিন্তু তার গান থেকেই এখন প্রতি মাসে রয়্যালিটি পাবে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার। ২০১৭ সালে অনলাইনে আইয়ুব বাচ্চু নিজের কিছু গানের কপিরাইট নিবন্ধন করেছিলেন। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কপিরাইট অফিসের ব্যবস্থাপনায় আইয়ুব বাচ্চুর ২৭২টি গান সংরক্ষরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কপিরাইট নিবন্ধনকৃত ২৭২টি গানের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আরকাইভিং কর্মসূচি হিসেবে এবি কিচেন নামে একটি ওয়েবসাইটে গানগুলো সংরক্ষণ করা হয়।

সেই কর্মসূচির আওতায় এমসিএন কোম্পানি জেড এম স্টুডিওর সহযোগিতায় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন- ইউটিউব, আই-টিউন, ফেসবুক, অ্যামাজনসহ ডিজিটাল মাধ্যমে চ্যানেল খুলে করে মনিটাইজিং ও ডিজিটাল সিঙ্কিয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এক বছরে সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আইয়ুব বাচ্চুর রেজিস্ট্রার্ড অ্যাকাউন্ট ‘এবি কিচেন’-এ রয়্যালিটি হিসেবে ৫০১৪.০৮ মার্কিন ডলার জমা হয়েছে বলে জানায় কপিরাইট অফিস। এছাড়া আইয়ুব বাচ্চুর গানগুলোকে দুটি মোবাইল কোম্পানি ও একটি স্থানীয় ওটিটি প্ল্যটিফর্মে ব্যবহারের জন্য ‘গ্যাক মিডিয়া’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের হাতে রয়্যালিটির চেক হস্তান্তর করেন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত ৫ হাজার ডলার এবং চুক্তি অনুসারে গ্যাক মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত এককালীন ৫ লাখ টাকার অগ্রিম চেক আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ৯ লাখ টাকার বেশি অর্থ বুঝে পায় এই ব্যান্ড তারকার উত্তরাধিকাররা।

কপিরাইট অফিসের রেজিস্টার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘এবি কিচেন ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয় ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর। তারপর মনিটাইজ করা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়্যালিটি প্রাপ্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে আরো দু-তিন মাস লেগে যায়। মূলত ৯ মাস ধরে রয়্যালিটি জমা হতে শুরু করে। কপিরাইট নিবন্ধনকৃত ২৭২টি গানের ডিজিটাল আর্কাইভিং কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর ইতোমধ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রয়্যালিটি হিসেবে প্রায় ৫ হাজার ডলারের মতো রেমিট্যান্স জমা হয়েছে।

এছাড়া গ্যাক মিডিয়া নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে ৫ লাখ টাকার চেক অগ্রিম পাওয়া যায়।’ কপিরাইট অফিস জানায়, সরকারিভাবে কোনো শিল্পীর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এই প্রথম। শিল্পীদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম ই-কপিরাইট আবেদনকারী ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। জীবিত থাকা অবস্থায় তার ২৭টি অ্যালবাম কপিরাইট করে গেছেন তিনি, যার মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ গানের গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী তিনি।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গান আপলোড করে ডিজিটাল মিডিয়ার দ্বারা যে অর্থ উপার্জিত হতে পারে, এটি আমাদের দেশে একটি নতুন ধারণা। এখনো এ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে তা অবিশ্বাস্যও বটে।’ এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে একজন সংগীতজ্ঞকে সম্মান জানানো, তার সৃষ্টিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক উপার্জনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসকে সাধুবাদ জানান। দেশের আরো জনপ্রিয় সংগীতব্যক্তিত্ব যদি তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সহায়তা চান, তবে অনুরূপভাবে তাদেরও সহায়তার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি কপিরাইট অফিসকে অনুরোধ জানান।

চিত্রজগত/সঙ্গীত/আর.কে

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়