রবিবার, ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

দেশে দেশে ঈদ

আয়োজন ভিন্ন হলেও আনন্দ অভিন্ন

মুসলমানদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা দিনটি উদ্‌যাপন করেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যের সঙ্গে। রীতি-রেওয়াজ-নামে কিছুটা ভিন্নতা এলেও আনন্দ একই রকম। এ আনন্দকে বর্ণিল করতে নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতির প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়।

সৌদি আরবের জাতীয় উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এখানে তিন দিন থাকে সরকারি ছুটি। তাদের একটি প্রচলিত রীতি হলো পুরুষরা তাদের ছেলেমেয়ে, স্ত্রী নিয়ে বাবার বাসায় ঈদ পালন করেন। এ দিনে পুরুষরা কান্দর নামে সাদা পোশাক পরিধান করে মাথায় দেয় ‘গাহফিহ’ নামের টুপি। নারীরা এ দিনে ‘থাউব’ নামের বিশেষ পোশাক পরে থাকে।

ঈদের দিন সৌদি মুসলিমরা বাজার থেকে বেশি পরিমাণে চাল কিনে আনে। আর তা বাড়ি প্রবেশের দরজার বাইরে রেখে দেয়। যাতে অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষ তা নিয়ে প্রয়োজন মেটাতে পারে। ঈদের নামাজ শেষে বাড়িতে বিশেষ খাবার রান্না হয়। শিশুদের উপহার হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। এ দিনে অনেক দোকানি ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ছাড়া প্রদান করে। তাছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে অমুসলিমদের উপহার দিতেও ভোলে না তারা।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতর বড় করে উদ্‌যাপিত হয়। সবাই নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করে। এখানে ঈদের আগের দিন থেকেই উৎসব পালিত হয়। ঈদের আগের রাতকে তাকবিরান বলা হয়। মসজিদ ও রাস্তায় তাকবির ধ্বনি উচ্চারিত হয়। রাস্তাঘাটে মশাল, আতশবাজি করা হয়। তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার রেন্দাং, কেতুপাট, লেমাং রান্না করে। শহরের ঘরে ঘরে প্রচুর পরিমাণে খাবার রান্না করে প্রতিবেশী, এমনকি অমুসলিমদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়।

ইউরোপের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ তুরস্কে ঈদুল ফিতরকে বলা হয় ‘সেকার বাইরাম’-যার অর্থ চিনি উৎসব। এ দিনটিকে সামনে রেখে তুর্কি নারীরা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, পুডিং, কেক ও বাকালাভা নামের পেস্ট্রি তৈরি করে। ঐতিহ্যগতভাবে এ দিনটিতে ইস্তাম্বুল শহরের ‘বুমস্ক’সহ অন্যান্য মসজিদে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের দিন বিশেষ কায়দায় বয়স্কদের শ্রদ্ধা জানানো তুরস্কের বহু পুরনো একটি প্রথা। এদিনে তুর্কিরা প্রবীণ ব্যক্তির ডান হাতে চুমু খায় এবং সেই হাতটি তার কপালে ছুঁইয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানায়।

এদিকে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। ঈদের দিনকে ইন্দোনেশিয়ায় বলা হয় ‘হারি রায়া ঈদুল ফিতরি’। এদিনটি ‘লেবারান’ হিসেবেও পরিচিত। ঈদের দিনে তারা বিগত বছরের কৃতকর্মের জন্য আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে কাছে ক্ষমা চায়। ঈদের এ বিশেষ দিনটিতে নারীরা সে দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘কেবায়া কুরঙ্গ’ আর পুরুষরা পরে ‘বাজু কোকো’, যা সে দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। ঈদের দিন তারা সমাধিস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত করে। ঈদের দিন বিশেষ খাবার হিসেবে তারা কেতুপাত, দোদোল, লেমাং নামের বিভিন্ন খাবার রান্না করে। ঘর সাজাতে তারা ‘পেলিটাস’ বা প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকে।

কাতারে তোপধ্বনি দিয়ে বা সাইরেন বাজিয়ে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখার সংবাদ ঘোষণা করা হয়। কাতারবাসী তিন দিন ধরে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করে। সাজগোজ করে ছুটির দিনটিকে স্বাগত জানাতে তৈরি হয় তারা। মেয়েরা হাত-পায়ে মেহেদি লাগায়। কাতারে এই রেওয়াজটি এত নৈমিত্তিক যে নতুন চাঁদ দেখার ব্যাপারটিকে প্রায়ই ‘মেহেদি রাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মেয়েরা নতুন জুতো আর সোনালি বা রুপালি সুতোয় নকশা করা কাফতান পরে। পুরুষরাও নিজেদের সাজগোজের দিকে বিশেষ নজর দেয়। তারা পোশাকে আতর লাগায়।
সূত্র: সংবাদচিত্র ডটকম

চিত্রজগত/উৎসব

সংশ্লিষ্ট সংবাদ